স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় মানুষ হাসবে : গোলাম পরওয়ার

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : সম্প্রতি দুই-চার দিনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তাতে সরকার যেভাবে নির্লিপ্ত ও নির্বাক ভূমিকা পালন করছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

গোলাম পরওয়ার বলেছেন, গণমাধ্যমের গাড়িতে হামলা, বাড়িঘরে ভাঙচুর, চার ঘণ্টা ধরে গুলি চালিয়ে লুটপাট ও মানুষকে আহত করার মতো ঘটনা ঘটছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। এতে মানুষ হাসবে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, জনগণের জানমাল ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা দেওয়া। উনি এখন সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু হাসপাতালে ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, গণমাধ্যমের ওপর হামলা এবং সাংবাদিক আহত হওয়ার পরও যদি বলা হয় উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, তাহলে জাতি এমন বক্তব্য কোনো দায়িত্বশীল মন্ত্রীর কাছ থেকে আশা করে না।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা সরকারপ্রধান ও সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের প্রতি অনুরোধ ও দাবি জানাব— আপনারা যার যার বিভাগের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নাগরিকদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল ও সিরিয়াস হোন। তা না হলে আপনারা শুধু জনগণের আস্থা হারাতে শুরু করেননি, বরং একটি সীমার কাছাকাছি নেমে গেছেন। তসবিহর একটি দানা খুলে পড়লে যেমন একে একে অন্য দানাগুলোও খুলে পড়তে থাকে, তেমনি সরকারের ওপর জনগণের আস্থার ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ব্যর্থ হয়ে আপনারা জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে বলতে গেলে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। দেশের প্রধান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না করে এখন আবার ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জনগণ সংবিধান সংস্কারের যে পদ্ধতিতে রায় দিয়েছে, সেটিকে উপেক্ষা করে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে নতুন পদ্ধতিতে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা জাতির সঙ্গে মহাপ্রতারনা।

গোলাম পরওয়ার বলেন, একই সঙ্গে সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে মানুষ নিরাপদ বোধ করছে না। স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বাড়িঘর ও অফিসে হামলার ঘটনা ঘটছে, অথচ মন্ত্রীরা বলছেন উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে কলকারখানার প্রায় ৫০ শতাংশ উৎপাদন কমে গেছে। একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচিত সরকার এসব বিষয়ে কীভাবে এতটা নির্লিপ্ত থাকতে পারে, সেটিই আমাদের বিস্মিত করছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আমরা ইতোমধ্যে জানিয়েছি। গণমাধ্যমের রিপোর্টগুলো সরকার কেন গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না, সেটিও প্রশ্ন। এসব ঘটনার সঙ্গে সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী-এমপি জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এমনকি নারী সংসদ সদস্যদেরও এ ধরনের ঘটনায় জড়িত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের নির্বাচিত এলাকার ওপর খবরদারি করার জন্য দারগো বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আরেকটি গণভোটের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন এমন কথা বলেছেন, তার ব্যাখ্যা তিনিই দেবেন। তবে তার আগে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। ওই গণভোটে তারা অংশ নিয়েছে এবং তারাই গণভোটের প্রস্তাবক ছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান হিসেবে উত্তরবঙ্গে গিয়ে গণভোটের পক্ষে প্রচারও করেছেন। জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংবিধান সংস্কারের যে পদ্ধতি অনুমোদন করেছে, সেই অনুমোদিত পদ্ধতিকে পাশ কাটিয়ে নতুন পদ্ধতিতে যাওয়ার আগে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন। যে গণভোটে আপনারা ভোট দিলেন, সেই গণভোটের পরিণতি কী হলো? তার ব্যাখ্যা না দিয়ে নতুন আরেকটি প্রক্রিয়া শুরু করা হলে সেটি নতুন সংকটের দিকে যাত্রা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় মানুষ হাসবে : গোলাম পরওয়ার

» ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চলবে : ডিএনসিসি প্রশাসক

» চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

» গৃহবধূর ছবি ফেসবুকে পোস্টের ঘটনায় যুবক গ্রেফতার

» প্যারিস ফ্যাশন উইকে ঐশ্বরিয়া, সামাজিকমাধ্যমে শরীর নিয়ে কটাক্ষ

» খালে আটকা পড়ল হাঙর, পর্যটকদের ভিড়

» বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জন্য চীন-পাকিস্তান দুয়ার খুলে দিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

» বিশেষ অভিযানে ১২ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা উদ্ধার

» ভারতীয় মালামাল উদ্ধার

» ‘জেলা হাসপাতালে ১০ ও মেডিক্যাল কলেজে ৫০ ডায়ালাইসিস মেশিন বসাবে সরকার’

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় মানুষ হাসবে : গোলাম পরওয়ার

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : সম্প্রতি দুই-চার দিনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তাতে সরকার যেভাবে নির্লিপ্ত ও নির্বাক ভূমিকা পালন করছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

গোলাম পরওয়ার বলেছেন, গণমাধ্যমের গাড়িতে হামলা, বাড়িঘরে ভাঙচুর, চার ঘণ্টা ধরে গুলি চালিয়ে লুটপাট ও মানুষকে আহত করার মতো ঘটনা ঘটছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি। এতে মানুষ হাসবে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, জনগণের জানমাল ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা দেওয়া। উনি এখন সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু হাসপাতালে ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, গণমাধ্যমের ওপর হামলা এবং সাংবাদিক আহত হওয়ার পরও যদি বলা হয় উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, তাহলে জাতি এমন বক্তব্য কোনো দায়িত্বশীল মন্ত্রীর কাছ থেকে আশা করে না।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা সরকারপ্রধান ও সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের প্রতি অনুরোধ ও দাবি জানাব— আপনারা যার যার বিভাগের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নাগরিকদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল ও সিরিয়াস হোন। তা না হলে আপনারা শুধু জনগণের আস্থা হারাতে শুরু করেননি, বরং একটি সীমার কাছাকাছি নেমে গেছেন। তসবিহর একটি দানা খুলে পড়লে যেমন একে একে অন্য দানাগুলোও খুলে পড়তে থাকে, তেমনি সরকারের ওপর জনগণের আস্থার ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ব্যর্থ হয়ে আপনারা জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে বলতে গেলে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। দেশের প্রধান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না করে এখন আবার ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জনগণ সংবিধান সংস্কারের যে পদ্ধতিতে রায় দিয়েছে, সেটিকে উপেক্ষা করে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে নতুন পদ্ধতিতে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা জাতির সঙ্গে মহাপ্রতারনা।

গোলাম পরওয়ার বলেন, একই সঙ্গে সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে মানুষ নিরাপদ বোধ করছে না। স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বাড়িঘর ও অফিসে হামলার ঘটনা ঘটছে, অথচ মন্ত্রীরা বলছেন উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে কলকারখানার প্রায় ৫০ শতাংশ উৎপাদন কমে গেছে। একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচিত সরকার এসব বিষয়ে কীভাবে এতটা নির্লিপ্ত থাকতে পারে, সেটিই আমাদের বিস্মিত করছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আমরা ইতোমধ্যে জানিয়েছি। গণমাধ্যমের রিপোর্টগুলো সরকার কেন গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না, সেটিও প্রশ্ন। এসব ঘটনার সঙ্গে সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী-এমপি জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এমনকি নারী সংসদ সদস্যদেরও এ ধরনের ঘটনায় জড়িত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের নির্বাচিত এলাকার ওপর খবরদারি করার জন্য দারগো বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আরেকটি গণভোটের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন এমন কথা বলেছেন, তার ব্যাখ্যা তিনিই দেবেন। তবে তার আগে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। ওই গণভোটে তারা অংশ নিয়েছে এবং তারাই গণভোটের প্রস্তাবক ছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান হিসেবে উত্তরবঙ্গে গিয়ে গণভোটের পক্ষে প্রচারও করেছেন। জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংবিধান সংস্কারের যে পদ্ধতি অনুমোদন করেছে, সেই অনুমোদিত পদ্ধতিকে পাশ কাটিয়ে নতুন পদ্ধতিতে যাওয়ার আগে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন। যে গণভোটে আপনারা ভোট দিলেন, সেই গণভোটের পরিণতি কী হলো? তার ব্যাখ্যা না দিয়ে নতুন আরেকটি প্রক্রিয়া শুরু করা হলে সেটি নতুন সংকটের দিকে যাত্রা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com